Friday, 19 June 2020

ব্রহ্মবিদ্যাঃ-


উপনিষদে উমা হৈমবতী ব্রহ্মবিদ্যা রূপে চিত্রায়িত। সামবেদীয় কেনোপনিষদে বর্ণিত আছে—“অথ ইন্দ্রম্ অব্রুবন্ মঘবন্নেতদ্বিজানীহি কিমেতদ্‌যক্ষমিতি। তথেতি তদভ্যদ্রবত্তস্মাত্তিরোদধে। স তস্মিন্নেবাকাশে স্ত্রিয়মাজগাম বহুশোভমানামুমাং হৈমবতীম্। তং হোবাচ কিমেতদ্যক্ষমিতি।-(কেনোপনিষদ্-৩।১১,১২)
সা ব্রহ্মেতি হোবাচ ব্রহ্মণো বা এতদ্বিজয়ে মহীয়ধ্বমিতি। ততো হৈব বিদাঞ্চকার ব্রহ্মেতি।”-(কেনোপনিষদ্-৪।১)
ভগবৎপাদ্ শঙ্করাচার্য্যের 'শাঙ্করভাষ্য' অনুসারে ভাবার্থঃ-অনন্তর দেবগণ ইন্দ্রকে বলিলেন, “হে বলবান মঘবন্, এই পূজ্যমূর্ত্তি কি স্বরূপবিশিষ্ট ইহা জানিয়া আইস।” ইন্দ্র “তাহাই হউক” বলিয়া ব্রহ্মের অভিমুখে গেলেন। নিজের সমীপে আগত সেই ইন্দ্রের নিকট হইতে ব্রহ্ম অন্তর্ধান হইলেন। ইন্দ্রের ইন্দ্রত্বাভিমান অধিকভাবে দূর করিতে হইবে বলিয়া ব্রহ্ম ইন্দ্রের সহিত কথা পর্যন্ত বলিলেন না।
সেই পূজ্য যে আকাশপ্রদেশে আত্মদর্শনদিয়া অন্তর্হিত হইয়াছিলেন,সেই আকাশপ্রদেশেই ইন্দ্র 'সেই পূজ্যমূর্ত্তি কি স্বরূপবান' ইহা ভাবিতে ভাবিতে অবস্থান করিতে লাগিলেন,অগ্নি প্রভৃতি দেবগণের মত ফিরিয়া আসিলেন না।
সেই পূজ্যমূর্ত্তিতে অর্থাৎ ব্রহ্মেতে ইন্দ্রের শ্রদ্ধা দেখিয়া ব্রহ্মবিদ্যা স্ত্রীবেশে উমামূর্ত্তিতে আবির্ভূত হইলেন। ইন্দ্র সেই সুবর্ণনির্মিত অলঙ্কারভূষিতার ন্যায় বহুশোভমানা স্ত্রীমূর্ত্তি উমা হৈমবতীর নিকট আসিলেন। ব্রহ্মশক্তি উমাই হিমালয়ের দুহিতা অর্থাৎ কন্যা বলিয়া হৈমবতী, তিনি সর্বদা সর্বজ্ঞ মহেশ্বরের সহিত অবস্থান করেন বলিয়া পূজ্যমূর্ত্তিতত্ত্ব অর্থাৎ ব্রহ্মতত্ত্ব জানিতে সমর্থ-ইহা ভাবিয়া ইন্দ্র তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “বলুন, দর্শন দিয়া অন্তর্হিত পূজ্যরূপ কি স্বরূপবান?”
তিনি কহিলেন, “উনি ব্রহ্ম, ব্রহ্মেরই অর্থাৎ ঈশ্বরেরই বিজয়লাভে ঈশ্বরকর্তৃকই অসুরেরা পরাজিত হইয়াছে, তোমরা তাহাতে নিমিত্তমাত্র। তাঁহারই বিজয়লাভের ফলে তোমরা মহিমা প্রাপ্ত হইয়াছ। এই বিজয় আমাদেরই মহিমা-এইরূপ তোমাদের যে অভিমান-তাহা মিথ্যা।” তখন উমার ঐরূপ বাক্য হইতেই ইন্দ্র জানিলেন যে, ইনি ব্রহ্ম; কিন্তু নিজবুদ্ধিবলে নহে।

No comments:

Post a Comment

Note: only a member of this blog may post a comment.