তন্ত্রমতে ইহাই দেবীসূক্ত। ইহাকে 'অপরাজিতা স্তব' বলে। লক্ষ্মীতন্ত্রে আছে এই দেবীসূক্ত সর্ব্বফলদায়ক। এই সূক্ত দ্বারা নিত্য দেবীর স্তব করিলে মনুষ্য সকল ক্লেশ অতিক্রম করিয়া মহৈশ্বর্য্য লাভ করেন।শ্রীমার্কণ্ডেয়পুরাণের দেবীমাহাত্ম্য শ্রীশ্রীচণ্ডীর দেব্যাদূতসংবাদ নামক পঞ্চম অধ্যায়ে বর্ণিত বর্ণিত আছে-
দেবা ঊচুঃ .. ৮..
নমো দেব্যৈ মহাদেব্যৈ শিবায়ৈ সততং নমঃ ।
নমঃ প্রকৃতৈ ভদ্রায়ৈ নিয়তাঃ প্রণতাঃ স্ম তাম্ ।। ৯
নাগোজীভট্টের টীকানুসারে বঙ্গানুবাদঃ- মহামায়াকে দেবগণ এইরূপ স্তব করিলেন- দেবীকে, মহাদেবীকে প্রণাম। সতত মঙ্গলদায়িনীকে প্রণাম। সৃষ্টিশক্তিরূপিণী প্রকৃতিকে প্রণাম। স্থিতিশক্তিরূপিণী ভদ্রাকে প্রণাম। আমরা সমাহিত চিত্তে তাঁহাকে বার বার প্রণাম করি।
রৌদ্রায়ৈ নমো নিত্যায়ৈ গৌর্যৈ ধাত্র্যৈ নমো নমঃ ।
জ্যোৎস্নায়ৈ চেন্দুরূপিণ্যৈ সুখায়ৈ সততং নমঃ ।। ১০
নাগোজীভট্টের টীকানুসারে বঙ্গানুবাদঃ- রৌদ্রাকে (সংহারশক্তিকে) প্রণাম। নিত্যাকে (ত্রিকালাতীত সত্তারূপিণীকে) প্রণাম। গৌরী জগদ্ধাত্রীকে প্রণাম। জ্যোৎস্নারূপা, চন্দ্ররূপা ও সুখস্বরূপাকে সতত প্রণাম।
কল্যাণ্যৈ প্রণতা বৃদ্ধ্যৈ সিদ্ধ্যৈ কুর্মো নমো নমঃ ।
নৈঋত্যৈ ভুভৃতাং লক্ষ্ম্যৈ শর্বাণ্যৈ তে নমো নমঃ ।। ১১
নাগোজীভট্টের টীকানুসারে বঙ্গানুবাদঃ- কল্যাণীকে প্রণাম করি। বৃদ্ধিরূপা ও সিদ্ধিরূপাকে পুনঃ পুনঃ প্রণাম করি।অলক্ষ্মীরূপা, ভূপতিগণের লক্ষ্মীরূপা শর্বাণী আপনাকে বার বার প্রণাম করি।
দুর্গায়ৈ দুর্গপারায়ৈ সারায়ৈ সর্বকারিণ্যৈ ।
খ্যাত্যৈ তথৈব কৃষ্ণায়ৈ ধূম্রায়ৈ সততং নমঃ ।। ১২
নাগোজীভট্টের টীকানুসারে বঙ্গানুবাদঃ- দুস্তর-ভবসমুদ্র-পার-কারিণী, শক্তিরূপিণী, সৃষ্টিকর্ত্রী, খ্যাতি (বা প্রকৃতি-পুরুষের ভেদ বা প্রসিদ্ধি)-রূপিণী কৃষ্ণবর্ণা ও ধূম্রবর্ণা দুর্গাদেবীকে সতত প্রণাম করি।
ব্যাখ্যাঃ-তত্ত্বপ্রকাশিকা টীকা অনুসারে-পাঁচপ্রকার খ্যাতি বা দার্শনিক মতবাদ আছে। যথা-বিজ্ঞানবাদের আত্মখ্যাতি, শূন্যবাদের অসৎখ্যাতি, মীমাংসার অখ্যাতি, ন্যায়ের অন্যথাখ্যাতি এবং অদ্বৈতবেদান্তের অনির্বচনীয় খ্যাতি। শ্রীভগবান্ শ্রীমদ্ভাগবতের ১১শ স্কন্ধে উদ্ভবকে বলিতেছেন যে, তিনি খ্যাতিবাদিগণের বিকল্পস্বরূপ।
অতিসৌম্যাতিরৌদ্রায়ৈ নতাস্তস্যৈ নমো নমঃ ।
নমো জগৎপ্রতিষ্ঠায়ৈ দেব্যৈ কৃত্যৈ নমো নমঃ ।। ১৩
নাগোজীভট্টের টীকানুসারে বঙ্গানুবাদঃ- যিনি বিদ্যারূপে অতি সৌম্যা এবং অবিদ্যারূপে অতি রৌদ্রা (অতি ভীষণা) তাঁহাকে পুনঃ পুনঃ প্রণাম। জগতের আশ্রয়রূপিণীকে প্রণাম। ক্রিয়ারূপিণী দেবীকে পুনঃ পুনঃ প্রণাম।
যা দেবী সর্বভূতেষু বিষ্ণুমায়েতি শব্দিতা ।
নমস্তস্যৈ (১৪) নমস্তস্যৈ (১৫) নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ।। ১৬
নাগোজীভট্টের টীকানুসারে বঙ্গানুবাদঃ- যে দেবী সকল প্রাণীতে বিষ্ণুমায়া নামে (আগমশাস্ত্রে) অভিহিতা হন, তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার, নমস্কার, নমস্কার।
ব্যাখ্যাঃ-গুপ্তবতী টীকা অনুসারে-বরাহপুরাণমতে যে শক্তি মেঘ, বৃষ্টি, শস্যের উৎপত্তি প্রভৃতি কার্য্য সম্পন্ন করেন তিনিই বিষ্ণুমায়া। বিষ্ণুমায়া, যোগমায়া ও মহামায়া চণ্ডিকার ভিন্ন নাম।
যা দেবী সর্বভূতেষু চেতনেত্যভিধীয়তে ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ।। ১৭-১৯
নাগোজীভট্টের টীকানুসারে বঙ্গানুবাদঃ- যে দেবী সর্বভূতে চেতনারূপে অর্থাৎ জ্ঞানাত্মিকা অন্তঃকরণবৃত্তিরূপে প্রসিদ্ধা, তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার, নমস্কার, নমস্কার।
ব্যাখ্যাঃ- চেতনারূপে প্রসিদ্ধা ইহার অর্থ গুপ্তবতী টীকা অনুসারে 'জীব-নাড়ী' আর চতুর্ধরী টীকা অনুসারে 'অন্তঃকরণবৃত্তি'।
যা দেবী সর্বভূতেষু বুদ্ধিরূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ।। ২০-২২
নাগোজীভট্টের টীকানুসারে বঙ্গানুবাদঃ- যে দেবী সর্বভূতে বুদ্ধিরূপে অবস্থিতা, তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার, নমস্কার, নমস্কার।
যা দেবী সর্বভূতেষু নিদ্রারূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ।। ২৩-২৫
নাগোজীভট্টের টীকানুসারে বঙ্গানুবাদঃ- যে দেবী সর্বভূতে নিদ্রারূপে বিরাজিতা তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার, নমস্কার, নমস্কার।
যা দেবী সর্বভূতেষু ক্ষুধারূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ।। ২৬-২৮
নাগোজীভট্টের টীকানুসারে বঙ্গানুবাদঃ- যে দেবী সর্বভূতে ক্ষুধারূপে অবস্থিতা তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার, নমস্কার, নমস্কার।
যা দেবী সর্বভূতেষু ছায়ারূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ।। ২৯-৩১
নাগোজীভট্টের টীকানুসারে বঙ্গানুবাদঃ- যে দেবী সর্বপ্রাণীতে ছায়ারূপে বিরাজমানা, তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার, নমস্কার, নমস্কার।
যা দেবী সর্বভূতেষু শক্তিরূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ।। ৩২-৩৪
নাগোজীভট্টের টীকানুসারে বঙ্গানুবাদঃ- যে দেবী সর্বপ্রাণীতে শক্তিরূপে অধিষ্ঠিতা, তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার, নমস্কার, নমস্কার।
যা দেবী সর্বভূতেষু তৃষ্ণারূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ।। ৩৫-৩৭
নাগোজীভট্টের টীকানুসারে বঙ্গানুবাদঃ- যে দেবী সর্বভূতে তৃষ্ণা (বিষয়-বাসনা)-রূপে সংস্থিতা, তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার, নমস্কার, নমস্কার।
যা দেবী সর্বভূতেষু ক্ষান্তিরূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ।। ৩৮-৪০
নাগোজীভট্টের টীকানুসারে বঙ্গানুবাদঃ- যে দেবী সর্বভূতে ক্ষমারূপে অবস্থিতা, তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার, নমস্কার, নমস্কার।
যা দেবী সর্বভূতেষু জাতিরূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ।। ৪১-৪৩
নাগোজীভট্টের টীকানুসারে বঙ্গানুবাদঃ- যে দেবী সর্বভূতে জাতিরূপে অর্থাৎ গোত্ব-মনুষ্যত্বাদি জাতিরূপে সংস্থিতা, তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার, নমস্কার, নমস্কার।
ব্যাখ্যাঃ- জাতিরূপে বিষয়ে গুপ্তবতীটীকা মতে 'জন্ম বা ব্রহ্মসত্তা'।
যা দেবী সর্বভূতেষু লজ্জারূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ।। ৪৪-৪৬
নাগোজীভট্টের টীকানুসারে বঙ্গানুবাদঃ-যে দেবী সর্বভূতে লজ্জারূপে অবস্থিতা, তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার, নমস্কার, নমস্কার।
যা দেবী সর্বভূতেষু শান্তিরূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ।। ৪৭-৪৯
নাগোজীভট্টের টীকানুসারে বঙ্গানুবাদঃ-যে দেবী সর্বপ্রাণীতে শান্তিরূপে সংস্থিতা, তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার, নমস্কার, নমস্কার।
যা দেবী সর্বভূতেষু শ্রদ্ধারূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ।। ৫০-৫২
নাগোজীভট্টের টীকানুসারে বঙ্গানুবাদঃ-যে দেবী সর্বভূতে শ্রদ্ধারূপে অবস্থিতা, তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার, নমস্কার, নমস্কার।
যা দেবী সর্বভূতেষু কান্তিরূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ।। ৫৩-৫৫
নাগোজীভট্টের টীকানুসারে বঙ্গানুবাদঃ-যে দেবী সর্বপ্রাণীতে কান্তিরূপে অবস্থিতা, তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার, নমস্কার, নমস্কার।
যা দেবী সর্বভূতেষু লক্ষ্মীরূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ।। ৫৬-৫৮
নাগোজীভট্টের টীকানুসারে বঙ্গানুবাদঃ-যে দেবী সর্বপ্রাণীতে লক্ষ্মীরূপে অবস্থিতা, তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার, নমস্কার, নমস্কার।
যা দেবী সর্বভূতেষু বৃত্তিরূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ।। ৫৯-৬১
যে দেবী সর্বভূতে (কৃষি, গোরক্ষা ও বাণিজ্যাদি) বৃত্তি (জীবিকা)-রূপে সংস্থিতা, তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার, নমস্কার, নমস্কার।
যা দেবী সর্বভূতেষু স্মৃতিরূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ।। ৬২-৬৪
নাগোজীভট্টের টীকানুসারে বঙ্গানুবাদঃ-যে দেবী সর্বভূতে স্মৃতিরূপে অবস্থিতা, তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার, নমস্কার, নমস্কার।
যা দেবী সর্বভূতেষু দয়ারূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ।। ৬৫-৬৭
নাগোজীভট্টের টীকানুসারে বঙ্গানুবাদঃ-যে দেবী সর্বপ্রাণীতে দয়ারূপে অবস্থিতা, তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার, নমস্কার, নমস্কার।
যা দেবী সর্বভূতেষু তুষ্টিরূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ।। ৬৮-৭০
নাগোজীভট্টের টীকানুসারে বঙ্গানুবাদঃ-যে দেবী সর্বভূতে সন্তোষরূপে অর্থাৎ যথালাভে তুষ্টিরূপে অবস্থিতা, তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার, নমস্কার, নমস্কার।
যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ।। ৭১-৭৩
নাগোজীভট্টের টীকানুসারে বঙ্গানুবাদঃ-যে দেবী সর্বপ্রাণীতে মাতৃরূপে অর্থাৎ ব্রাহ্মী আদি অষ্টমাতৃকা বা মাতৃকা নাম্নী বর্ণদেবতা জননীরূপে অবস্থিতা, তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার, নমস্কার, নমস্কার।
ব্যাখ্যাঃ- মাতৃরূপে বিষয়ে গুপ্তবতী টীকামতে 'প্রমাতা'।
যা দেবী সর্বভূতেষু ভ্রান্তিরূপেণ সংস্থিতা ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ।। ৭৪-৭৬
নাগোজীভট্টের টীকানুসারে বঙ্গানুবাদঃ-যে দেবী সর্বপ্রাণীতে ভ্রান্তিরূপে অর্থাৎ যাহা যাহা নয়, তাহাকে তাহা মনে করা রূপ মিথ্যাজ্ঞানরূপে অবস্থিতা, তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার, নমস্কার, নমস্কার।
ব্যাখ্যাঃ- গুপ্তবতীটীকা মতে ভ্রান্তি অর্থাৎ 'অপ্রমা'।
ইন্দ্রিয়াণামধিষ্ঠাত্রী ভূতনাঞ্চাখিলেষু যা।
ভূতেষু সততং তস্যৈ ব্যাপ্তিদেব্যৈ নমো নমঃ ।। ৭৭
নাগোজীভট্টের টীকানুসারে বঙ্গানুবাদঃ-যিনি সকল প্রাণীতে চতুর্দশ ইন্দ্রিয়ের অধিষ্ঠাত্রী দেবতারূপে বিরাজিতা এবং যিনি পৃথিবী আদি পঞ্চ স্থূল ও পঞ্চ সূক্ষ্ম ভূতের প্রেরয়ত্রী, সেই বিশ্বব্যাপিকা ব্রহ্মশক্তিরূপা দেবীকে পুনঃ পুনঃ প্রণাম।
ব্যাখ্যাঃ- চতুর্দশ ইন্দ্রিয়ের অধিষ্ঠাত্রী দেবতারূপে বিরাজিতা বিষয়ে টীকা হইল-কর্ণ, ত্বক, চক্ষু, জিহ্বা ও নাসিকা এই পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয়ের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা যথাক্রমে দিক্, বায়ু, সূর্য, বরুণ ও অশ্বিনীকুমারদ্বয়। বাক্, পাণি বা হস্ত, পাদ, পায়ু ও উপস্থ বা জননেন্দ্রিয় এই পঞ্চ কর্ম্মেন্দ্রিয়ের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা যথাক্রমে অগ্নি, ইন্দ্র, বিষ্ণু, যম ও প্রজাপতি। মন, বুদ্ধি, অহঙ্কার ও চিত্ত-এই চারি অন্তরিন্দ্রিয়ের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা যথাক্রমে চন্দ্র, ব্রহ্মা, শঙ্কর ও অচ্যুত।
চিতিরূপেণ যা কৃৎস্নমেতদ্ ব্যাপ্যা স্থিতা জগৎ ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ।। ৭৮-৮০
নাগোজীভট্টের টীকানুসারে বঙ্গানুবাদঃ-যিনি চিৎশক্তিরূপে এই সমগ্র জগৎ ব্যাপিয়া অবস্থিতা, তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার। তাঁহাকে নমস্কার, নমস্কার, নমস্কার।