শ্রীপরাশর উবাচ
সিংহাসনগতঃ শক্রস্সম্প্রাপ্য ত্রিদিবং পুনঃ ।
দেবরাজ্যে স্থিতো দেবীং তুষ্টাবাব্জকরাং ততঃ ॥ ১॥
—পরাশর কহিলেন— তদনন্তর ইন্দ্র পুনর্ব্বার ত্রিদিব (স্বর্গ) প্রাপ্ত হওয়ায় দেবরাজ্যে স্থিত ও সিংহাসনে অধিষ্ঠিত
হইয়া পদ্মহস্তা দেবীকে (লক্ষ্মীকে) স্তব করিয়াছিলেন। ১
ইন্দ্র উবাচ
নমস্যে সর্বভূতানাং জননীমব্জসম্ভবাম্ ।
শ্রিয়মুন্নিদ্রপদ্মাক্ষীং বিষ্ণুবক্ষঃস্থলস্থিতাম্ ॥ ২॥
—ইন্দ্র বলিলেন— সর্ব্বভূতের জননী, অব্জসম্ভবা (কমলোদ্ভবা), বিকসিত পদ্মলোচনা, বিষ্ণুর বক্ষঃস্থলস্থিতা লক্ষ্মীকে নমস্কার। ২
ত্বং সিদ্ধিস্ত্বং স্বধা
স্বাহা সুধা ত্বং লোকপাবনী
।
সন্ধ্যা রাত্রিঃ প্রভা ভূতির্মেধা শ্রদ্ধা সরস্বতী ॥ ৩ ॥
—অয়ি লোকপাবনি! তুমি
সিদ্ধি, তুমি সুধা, তুমি
স্বাহা, স্বধা, সন্ধ্যা, রাত্রি, প্রভা, ভূতি (বিভূতি), মেধা, শ্রদ্ধা ও সরস্বতী। ৩
যজ্ঞবিদ্যা মহাবিদ্যা গুহ্যবিদ্যা চ শোভনে ।
আত্মবিদ্যা চ দেবি ত্বং
বিমুক্তিফলদায়িনী ॥ ৪ ॥
— অয়ি শোভনে দেবি!
তুমি যজ্ঞবিদ্যা, মহাবিদ্যা, গুহ্যবিদ্যা এবং বিমুক্তি-ফলদায়িনী
আত্মবিদ্যা। ৪
আন্বীক্ষিকী ত্রয়ী বার্তা দণ্ডনীতিস্ত্বমেব চ ।
সৌম্যাসৌম্যৈর্জগদ্রূপৈস্ত্বয়ৈতদ্দেবি
পূরিতম্ ॥ ৫ ॥
— তুমিই তর্কবিদ্যা, ত্রয়ী (ঋক্, যজুঃ ও
সামবিদ্যা), বার্তা (সংবাদ) ও দণ্ডনীতি। হে
দেবি! তোমারই সৌম্যাসৌম্যরূপে এই জগৎ পূরিত
(পরিপূর্ণ)। ৫
কা ত্বন্যা ত্বামৃতে
দেবি সর্বযজ্ঞময়ং বপুঃ ।
অধ্যাস্তে দেবদেবস্য যোগচিন্ত্যং গদাভৃতঃ ॥ ৬ ॥
—দেবি! তোমা ভিন্ন অন্য
কোন্ স্ত্রী যোগিগণের ধ্যেয় সেই গদাধর দেবদেবের
(ভগবান্ বিষ্ণুর) সর্ব্বযজ্ঞময় শরীরে বাস করিতে পারে?
৬
ত্বয়া দেবি পরিত্যক্তং সকলং
ভুবনত্রয়ম্ ।
বিনষ্টপ্রায়মভবত্ত্বয়েদানীং সমেধিতম্ ॥ ৭ ॥
— হে দেবি! তুমি
পরিত্যাগ করায় সকল ভুবনত্রয় বিনষ্টপ্রায়
হইয়াছিল। ইদানীং তোমা দ্বারাই সংবর্দ্ধিত
হইল। ৭
দারাঃ পুত্রাস্তথাঽঽগারসুহৃদ্ধান্যধনাদিকম্
।
ভবত্যেতন্মহাভাগে নিত্যং ত্বদ্বীক্ষণান্নৃণাম্ ॥ ৮ ॥
—অয়ি মহাভাগে! তোমার
দৃষ্টিমাত্রে মনুষ্যদিগের স্ত্রী, পুত্র, গৃহ, সুহৃদ ও
ধনধান্যাদি লাভ হইয়া থাকে।
৮
শরীরারোগ্যমৈশ্বর্যমরিপক্ষক্ষয়ঃ
সুখম্ ।
দেবি ত্বদ্দৃষ্টিদৃষ্টানাং পুরুষাণাং ন
দুর্লভম্ ॥ ৯ ॥
—দেবি! তোমার দৃষ্টিদৃষ্ট পুরুষদিগের পক্ষে শরীরের আরোগ্য, ঐশ্বর্য্য, সুখ ও শত্রুপক্ষের
বিনাশ কিছুই দুর্লভ নহে। ৯
ত্বমম্বা সর্বভূতানাং দেবদেবো হরিঃ পিতা ।
ত্বয়ৈতদ্বিষ্ণুনা চাম্ব জগদ্ব্যাপ্তং চরাচরম্ ॥ ১০॥
— তুমিই সর্ব্বভূতের মাতা আর দেবদেব
শ্রীহরি হইল পিতা; তোমাদের
উভয়ের দ্বারাই এই চরাচর জগৎ
ব্যাপ্ত। ১০
মা নঃ কোশস্তথা
গোষ্ঠং মা গৃহং মা
পরিচ্ছদম্ ।
মা শরীরং কলত্রং
চ ত্যজেথাঃ সর্বপাবনি ॥ ১১ ॥
—অয়ি সর্ব্ব-পাবনি!
তুমি আমাদের কোশ (ধনভাণ্ডার), গোষ্ঠ
(গোস্থান), গৃহ, পরিচ্ছদ (বস্ত্র),
শরীর ও কলত্র (পত্নী)
ত্যাগ করিও না।
মা পুত্রান্মা সুহৃদ্বর্গান্মা
পশূন্মা বিভূষণম্ ।
ত্যজেথা মম দেবস্য বিষ্ণোর্বক্ষঃস্থলাশ্রয়ে
॥ ১২ ॥
—অয়ি বিষ্ণুবক্ষঃস্থলাশ্রয়ে! আমার পুত্রগণ,
সুহৃদ্বর্গ, পশু ও বিভূষণ
(অলঙ্কার) সকল ত্যাগ করিও
না। ১২
সত্ত্বেন সত্যশৌচাভ্যাং তথা শীলাদিভির্গুণৈঃ ।
ত্যজ্যন্তে তে নরাঃ সদ্যঃ
সন্ত্যক্তা যে ত্বয়াঽমলে ॥
১৩॥
— অয়ি অমলে! তুমি
যাহাদিগকে ত্যাগ কর, তাহাদিগকে সত্ত্ব,
সত্য, শৌচ ও শীলাদি
গুণ সকলই ত্যাগ করে।
১৩
ত্বয়াঽবলোকিতাঃ সদ্যঃ শীলাদ্যৈরখিলৈর্গুণৈঃ ।
কুলৈশ্বর্যৈশ্চ পূজ্যন্তে পুরুষা নির্গুণা অপি ॥ ১৪॥
—তুমি অবলোকন করিলে
নির্গুণ পুরুষেরাও সদ্য শীলাদি অখিল
গুণ, কুল ও ঐশ্বর্য্যসম্পন্ন
হয়। ১৪
স শ্লাঘ্যঃ স
গুণী ধন্যঃ স কুলীনঃ স
বুদ্ধিমান্ ।
স শূরঃ স
চ বিক্রান্তো যস্ত্বয়া দেবি বীক্ষিতঃ ॥
১৫॥
হে দেবি! তুমি
যাহাকে নিরীক্ষণ কর, সে শ্লাঘ্য
(প্রশংসনীয়), সে
গুণী, সে ধন্য, সে
কুলীন, সে বুদ্ধিমান্, সে
শূর (বীর) এবং বিক্রান্ত
(বিক্রমশালী)। ১৫
সদ্যো বৈগুণ্যমায়ান্তি শীলাদ্যাঃ সকলা গুণাঃ ।
পরাঙ্গমুখী জগদ্ধাত্রী যস্য ত্বং বিষ্ণুবল্লভে
॥ ১৬ ॥
অয়ি জগদ্ধাত্রি বিষ্ণুবল্লভে!
তুমি যাহার প্রতি পরাঙ্মুখী হও, তাহার শীলাদি
সকল গুণ সদ্যঃই বৈগুণ্য
প্রাপ্ত হয়। ১৬
ন তে বর্ণয়িতুং
শক্তা গুণাঞ্জিহ্বাঽপি বেধসঃ ।
প্রসীদ দেবি পদ্মাক্ষি মাঽস্মাংস্ত্যাক্ষীঃ
কদাচন ॥ ১৭॥
হে পদ্মাক্ষি দেবি!
ব্রহ্মার জিহ্বাও তোমার গুণ বর্ণন করিতে
অশক্ত (অক্ষম), আমাদিগকে
কদাচ ত্যাগ করিও না।১৭
॥ ইতি শ্রীবিষ্ণুপুরাণে
মহালক্ষ্মী স্তোত্রং সম্পূর্ণম্ ॥
—(বিষ্ণুপুরাণ, প্রথমাংশ, নবম অধ্যায়, ১১৫-১৩১)
তথ্যসূত্রঃ- মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ণ বেদব্যাস প্রণীত 'বিষ্ণুপুরাণম্', আচার্য পঞ্চানন তর্করত্ন কর্তৃক সম্পাদিত, নবভারত পাবলিশার্স।
শ্রীশুভ চৌধুরী
কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ।

