যে গুণাতীত নিত্য মঙ্গলময়ী শক্তি সর্বদা সকল স্থানেই অখণ্ড অবিকৃতরূপে বিরাজমান আছেন; যোগেন্দ্র পুরুষগণ যাঁকে সমাধিকালে নিজ আত্মমন্দিরে তুরীয় চৈতন্যরূপে অনুভব করতঃ চরিতার্থতা লাভ করেন, তাঁরই সত্ত্ব অংশে সরস্বতী, রজঃ অংশে মহালক্ষ্মী আর তমঃ অংশে মহাকালী এই তিনটি অসীম ঐশ্বর্যশালিনী অনুপম রমণীমূর্তির আবির্ভাব হয়। দেবীভাগবতের প্রথম স্কন্ধের দ্বিতীয় অধ্যায়ে বর্ণিত আছে—
নির্গুণা
যা সদা নিত্যা ব্যাপিকা
বিকৃতা শিবা ।
যোগগম্যাঽখিলাধারা
তুরীয়া যা চ সংস্থিতা
॥
তস্যাস্তু
সাত্ত্বিকী শক্তী রাজসী তামসী তথা ।
মহালক্ষ্মীঃ
সরস্বতী মহাকালীতি তাঃ স্ত্রিয়ঃ ॥
-(দেবীভাগবত-১।২।১৯-২০)
—যিনি
সদা নির্গুণা, নিত্যা, ব্যাপিকা, অপরিণামিনী ও শিবা (মঙ্গলরূপিণী)
এবং যিনি ধ্যানগম্যা, বিশ্বাধারা
ও তুরীয়ারূপে সংস্থিতা, তাঁর সাত্ত্বিকী, রাজসী
ও তামসী শক্তিই যথাক্রমে মহাসরস্বতী, মহালক্ষ্মী ও মহাকালী।
ভগবৎপাদ্
শঙ্করাচার্য মহামায়ার গুণত্রয়াতীত তুরীয় স্বরূপের কথা স্পষ্টতঃই সৌন্দর্যলহরীতে
বর্ণনা করেছেন—
গিরামাহুর্দেবীং
দ্রুহিণগৃহিণীমাগমবিদো
হরেঃ
পত্নীং পদ্মাং হরসহচরীমদ্রিতনয়াম্ ।
তুরীয়া
কাপি ত্বং দুরধিগমনিঃসীমমহিমা
মহামায়া
বিশ্বং ভ্রময়সি পরব্রহ্মমহিষি ॥ ৯৭॥
—হে
পরব্রহ্মমহিষি! আগমবিদ্গণ ব্রহ্মার পত্নীকে বাগদেবী; বিষ্ণুর পত্নীকে লক্ষ্মী এবং পর্বত-তনয়া
দুর্গাকে মহেশ্বরের সহচরী বলে নির্দেশ করে
থাকেন। হে মহামায়া! এই
শক্তিত্রয় হতে অতিরিক্তা গুণত্রয়াতীতা
চতুর্থা তুমি কে? আমরা
তা নিরূপণ করতে সমর্থ নই।
তোমার দুরধিগম্য মহিমার সীমা নিরূপিত হয়
না। তুমি এই ব্রহ্মাণ্ডমণ্ডলকে
মোহিত করছ।.....
তথ্যসূত্রঃ-
১.
শ্রীমদ্দেবীভাগবতম্ মহাপুরাণম্, শৈবশ্রী নীলকণ্ঠ ভট্ট বিরচিত তিলকাখ্য
টীকা সমেত।
২.
শিবাবতার শঙ্করাচার্যের গ্রন্থমালা, চারখণ্ড, আনন্দলহরী, অচ্যুতানন্দ ও লক্ষ্মীধরের টীকা
সমেত, পণ্ডিতপ্রবর পঞ্চানন তর্করত্ন সম্পাদিত।
শ্রীশুভ
চৌধুরী
অক্টোবর
১৮, ২০২৫ খৃষ্টাব্দ।

No comments:
Post a Comment
Note: only a member of this blog may post a comment.