Friday, 19 June 2020

মহাভারতে শ্ৰীদুৰ্গা স্তোত্ৰম্ঃ-


শ্রীমহাভারতে ভীষ্মপর্বান্তর্গতে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাপর্বণি ত্রয়োবিংশোঽধ্যায়ঃ ।
সঞ্জয় উবাচ -
ধার্তরাষ্ট্রবলং দৃষ্ট্বা য়ুদ্ধায় সমুপস্থিতম্ ।
অর্জুনস্য হিতার্থায় কৃষ্ণো বচনমব্রবীত্ ॥ ১॥
শ্রীভগবানুবাচ -
শুচির্ভূত্বা মহাবাহো সঙ্গ্রামাভিমুখে স্থিতঃ ।
পরাজয়ায় শত্রূণাং দুর্গাস্তোত্রমুদীরয় ॥ ২॥

ভাবার্থঃ-সঞ্জয় বলিলেন,-কৃষ্ণ যুদ্ধোদ্যত ধাৰ্ত্তরাষ্ট্র সৈন্য দর্শন করিয়া অর্জ্জুনের হিতের জন্য কহিলেন,-হে মহাবাহো ! তুমি শত্রু পরাজয়ের নিমিত্ত শুচি হইয়া এবং সংগ্ৰামাভিমুখী হইয়া দুৰ্গাস্তোত্র কীৰ্ত্তন কর ॥ ১-২
সঞ্জয় উবাচ -
এবমুক্তোঽর্জুনঃ সঙ্খ্যে বাসুদেবেন ধীমতা ।
অবতীর্যং রথাত্ পার্থঃ স্তোত্রমাহ কৃতাঞ্জলিঃ ॥ ৩॥

ভাবার্থঃ-সঞ্জয় বলিলেন,-ধীমান্ বাসুদেব অৰ্জ্জুনকে এইরূপ বলিলে, পার্থ রথ হইতে যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হইয়া কৃতাঞ্জলি পূর্বক দুর্গার স্তব করিতে লাগিলেন ৷৷ ৩
'অথ দুর্গাদেবীস্তবম্ ।'
শ্রীঅর্জুন উবাচ -
নমস্তে সিদ্ধসেনানি আর্যে মন্দরবাসিনি ।
কুমারি কালি কাপালি কপিলে কৃষ্ণপিঙ্গলে ॥ ১॥

ভাবার্থঃ-হে আৰ্য্যে ! হে সিদ্ধসেনানি ! তুমি মন্দরাচলবাসিনী, তুমি কুমারী, তুমি কালী, তুমি কাপালী, তুমি কপিলা, ও তুমি কৃষ্ণপিঙ্গলা ; তোমাকে নমস্কার ৷
ভদ্রকালি নমস্তুভ্যম্ মহাকালি নমোস্তুতে ।
চণ্ডিচণ্ডে নমস্তুভ্যম্ তারিণি বরবর্ণিনি ॥ ২॥

ভাবার্থঃ-হে ভদ্রকালি ! তোমাকে প্ৰণাম, হে মহাকালি ! তোমাকে প্ৰণাম । হে চণ্ডি ! হে চণ্ডে ! হে তারিণি ! হে বরবর্ণিনি ! তোমাকে নমস্কার ॥
কাত্যায়নি মহাভাগে করালি বিজয়ে জয়ে ।
শিখিপিচ্ছধ্বজধরে নানাভরণভূষিতে ॥ ৩॥
অট্টশূলপ্রহরণে খড্গখেটধারিণি ।
গোপেন্দ্রস্যানুজে জ্যেষ্টে নন্দগোপকুলোদ্ভবে ॥ ৪॥
মহিষাসৃক্প্রিয়ে নিত্যং কৌশিকি পীতবাসিনি ।
অট্টহাসে কোকমুখে নমস্তেঽস্তু রণপ্রিয়ে ॥ ৫॥

ভাবার্থঃ-হে কাত্যায়নি ! হে মহাভাগে ! হে করালি ! হে বিজয়ে । হে জয়ে ! তুমি ময়ূরপুচ্ছ মস্তকে ধারণ করিয়াছ এবং নানাভারণে বিভূষিতা; তুমি অট্টশূল, খড়গ ও খেটকধারিণী, তুমি শ্ৰীকৃষ্ণের জ্যেষ্ঠা ভগিনী, তুমি নন্দগোপকুলসম্ভূতা । তুমি সৰ্ব্বদা মহিষরক্তপ্রিয়া, তুমি কৌশিকী, তুমি পীতবাসিনী, তুমি অট্টহাসিনী, তুমি চক্ৰবৎ বৃত্তমুখী ও তুমি রণপ্ৰিয়া, তোমাকে নমস্কার ॥
উমে শাকম্বরী শ্বেতে কৃষ্ণে কৈটভনাশিনি ।
হিরণ্যাক্ষি বিরূপাক্ষি সুধূম্রাক্ষি নমোঽস্তু তে ॥ ৬॥

ভাবার্থঃ- হে উমে ! হে শাকম্ভরি ! হে মহেশ্বরীরূপে শ্বেতে ! হে কৃষ্ণে ! তুমি মধুকৈটভনাশিনী, তুমি পীতনেত্ৰা বিবিধ মনুষ্যরূপে বিরূপাক্ষী ও মার্জারাদিরূপে সুধূম্রাক্ষী, তোমাকে নমস্কার ॥
বেদশ্রুতি মহাপুণ্যে ব্রহ্মণ্যে জাতবেদসি ।
জম্বূকটকচৈত্যেষু নিত্যম্ সন্নিহিতালয়ে ॥ ৭॥
ত্বং ব্রহ্মবিদ্যাবিদ্যানাং মহানিদ্রা চ দেহিনাম্ ।
স্কন্দমাতর্ভগবতি দুর্গে কান্তারবাসিনি ॥ ৮॥
স্বাহাকারঃ স্বধা চৈব কলা কাষ্ঠা সরস্বতী ।
সাবিত্রী বেদমাতা চ তথা বেদান্ত উচ্যতে ॥ ৯॥
স্তুতাসি ত্বং মহাদেবি বিশুদ্ধেনান্তরাত্মনা ।
জয়ো ভবতু মে নিত্যং ত্বত্প্রসাদাদ্রণাজিরে ॥ ১০॥

ভাবার্থঃ- হে বেদশ্ৰুতি মহাপুণ্য স্বরূপিণি। হে ব্ৰহ্মণ্য দেবি ! হে অতীতজ্ঞে ! জম্বুদ্বীপ রাজধানী ও দেবালয় তোমার নিত্য সন্নিহিত স্থান। তুমি বিদ্যাসকলের মধ্যে ব্ৰহ্মবিদ্যা এবং শরীরীদিগের মধ্যে মহানিদ্রা (অর্থাৎ ব্ৰহ্মবিদ্যার ফলভূত মুক্তি) তুমি কাৰ্ত্তিকেয় জননী, ভগবতী, দুৰ্গা ও কান্তারবাসিনী, তুমি স্বাহা, স্বধা, কলা, কাষ্ঠা, সরস্বতী, সাবিত্রী, বেদমাতা ও বেদান্তরূপিণী উক্ত হইতেছে। হে মহাদেবি! আমি বিশুদ্ধচিত্তে তোমাকে স্তব করিতেছি ; তোমার প্রসাদে যুদ্ধাঙ্গনে আমার নিত্য জয় হউক ৷৷
কান্তারভয়দুর্গেষু ভক্তানাং চালয়েষু চ ।
নিত্যং বসসি পাতালে য়ুদ্ধে জয়সি দানবান্ ॥ ১১॥

ভাবার্থঃ-কান্তারে, ভয়স্থলে, দুৰ্গে, ভক্তদিগের আলয়ে ও পাতালে তুমি সর্বদা বাস করিয়া থাক এবং যুদ্ধে দানবগণকে পরাজিত কর।
ত্বং জম্ভনী মোহিনী চ মায়া হ্রীঃ শ্রীস্তথৈব চ ।
সন্ধ্যা প্রভাবতী চৈব সাবিত্রী জননী তথা ॥ ১২॥
তুষ্টিঃ পুষ্টির্ধৃতির্দীপ্তিশ্চন্দ্রাদিত্যবিবর্ধিনী ।
ভূতির্ভূতিমতাং সঙ্খ্যে বীক্ষ্যসে সিদ্ধচারণৈঃ ॥ ১৩॥

ভাবার্থঃ-তুমি জম্ভিনী (তন্দ্রা), মোহিনী (নিদ্রা ), মায়া (অদ্ভূতদর্শন) তুমি হ্রী ( লজ্জা নামিকা চিত্তবৃত্তি-ইহাতে কামাদি বৃত্তির কথাও রহিল ) শ্ৰী, তুমি সন্ধ্যা, প্ৰভাবতী ও সাবিত্রী জননী। তুমি তুষ্টি, পুষ্টি, ধৃতি, দীপ্তি ও চন্দ্ৰসূৰ্য্যবৰ্দ্ধিনী (অত্যন্ত কান্তিমতী) এবং তুমি ভূতিমানদিগের গৃহে সম্পাৎস্বরূপ এবং সিদ্ধচারণগণের তত্ত্বজ্ঞানে জ্ঞানগম্য হইয়া থাক।
ফলশ্রুতি -
য়ঃ ইদং পঠতে স্তোত্রং কল্য উত্থায় মানবঃ ।
য়ক্ষরক্ষঃপিশাচেভ্যো ন ভয়ং বিদ্যতে সদা ॥ ১॥
ন চাপি রিপবস্তেভ্যঃ সর্পাদ্যা য়ে চ দংষ্ট্রিণঃ ।
ন ভয়ং বিদ্যতে তস্য সদা রাজকুলাদপি ॥ ২॥
বিবাদে জয়মাপ্নোতি বদ্ধো মুচ্যেত বন্ধনাত্ ।
দুর্গং তরতি চাবশ্যং তথা চোরৈর্বিমুচ্যতে ॥ ৩॥
সঙ্গ্রামে বিজয়েন্নিত্যং লক্ষ্মীং প্রাপ্নোতি কেবলাম্ ।
আরোগ্যবলসম্পন্নো জীবেদ্ বর্ষশতং তথা ॥ ৪॥

ভাবার্থঃ-যে মানব প্ৰত্যুষে উথ্থিত হইয়া এই স্তোত্রপাঠ করে, তাহার কদাচ যক্ষ, রাক্ষস ও পিশাচ হইতে ভয় থাকে না এবং তাহার শত্রু ভয়ও থাকে না, এবং দংষ্ট্রী ও সর্পাদি হিংস্ৰজীব হইতে ও রাজকুল হইতে তাহার ভয় থাকে না । সে ব্যক্তি অবশ্যই বিবাদে জয়লাভ করে, বন্ধন হইতে মুক্ত হয়। দুর্গ হইতে অবশ্যই উত্তীর্ণ হয়, চোর ভয় তাহার থাকে না ; সংগ্রামে নিশ্চলা লক্ষ্মী তাহাকে আশ্রয় করিয়া থাকেন, এবং সে আরোগ্য ও বলশালী হইয়া শতবর্ষ জীবিত থাকে ॥

ইতি শ্ৰীদুৰ্গা স্ত্ৰোত্ৰম্।

No comments:

Post a Comment

Note: only a member of this blog may post a comment.